নিষ্ক্রিয় গ্যাস ০১

নিষ্ক্রিয় গ্যাসকে নিষ্ক্রিয় বলে কেন ? রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে যৌগ গঠন করে না বলে । আসলেই কি করে না ? 😛
নিষ্ক্রিয় গ্যাসের এই মহান ধর্মের জন্য একে অভিজাত গ্যাস বা নোবেল গ্যাসও বলে।

ধাতুর মধ্যে এইরকম অভিজাত ধাতু ছিল না ?এরা ছিল – ruthenium, rhodium, palladium, silver, osmium, iridium, platinum, and gold. এই লিস্টের কয়েক জন কিন্তু একটু দুষ্ট প্রকৃতির , মানে মাঝে মধ্যে এক-দুইটা যৌগে অংশ নিয়ে ফেলে :3 আমাদের নিষ্ক্রিয় গ্যাসও তাদের মতই , সব সময় জাত্যাভিমান মানে না -_- 

যাই হোক , নিষ্ক্রিয় গ্যাসের যৌগ নিয়ে কথা বলতে চাইলে ২টা ভাগ নিয়ে কথা বলতে হবে। প্রাক ১৯৬২ সময় আর ১৯৬২ এর পরের সময়।

১৯৬২ সালের আগ পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় গ্যাসের যৌগ বলতে ক্ল্যাথরেট যৌগ , কিছু হাইড্রেটেড যৌগ আর সন্নিবেশ যৌগ ছিল বলে ধারণা করা হত।এখানে যে ৩টা নাম দেখলা , এরা কিন্তু আসলে রাসায়নিক যৌগ না ; মানে এখানে ইলেকট্রন আদান প্রদান বা শেয়ারের মাধ্যমে যৌগ গঠিত হয় না।

১৯৬২ সালে প্রথম একজন বিজ্ঞানী নিষ্ক্রিয় গ্যাসের রাসায়নিক যৌগ তৈরি করা যে সম্ভব সেটা নিয়ে একটা ইতিবাচক ধারণায় আসেন।

ক্ল্যাথরেট যৌগ মানে আসলে ফাঁদে ধরা দেয়া নিষ্ক্রিয় গ্যাসের যৌগ :-/ কুইনল বা ডাইহাইড্রক্সি বেনজিন এর কেলাস জালির মধ্যের ফাঁকে ফোঁকরে Ar , Kr , Xe এর অণু ঢুকে বসে থাকে। এদের তাই রাসায়নিক যৌগ বলা যায় না। অনেকটা এইরকম ভাবতে পারো , একটা জেলির মধ্যে তুমি একটা ইটের টুকরা ঢুকায়ে দিলা ; এরা একসাথে থাকল , কিন্তু যৌগ হবে না।

সন্নিবেশ যৌগ ; নাম শুনে মনে হচ্ছে এইটা অবশ্যই রাসায়নিক যৌগ হবে ! কিন্তু আসলে এটাও না :3 এখন পর্যন্ত এই ধরণের যে যৌগ গুলার নাম এসেছে তাদের মধ্যে আছে আর্গন বোরন ট্রাইফ্লোরাইড , ArBF3 . কলেজের পুরনো কেমিস্ট্রি বইতে রীতিমত ইলেকট্রন বিন্যাস দেখায়ে বলে দেয়া হইসে যে এভাবে এভাবে বোরন ট্রাইফ্লোরাইড আর আর্গন যৌগ গঠন করে। কিন্তু যেই কথাটা বইতে লিখে নাই সেইটা হচ্ছে যে এটা আসলে একটা তাত্ত্বিক যৌগ। মানে খুব কম তাপমাত্রায় এইরকম কিছু একটা হওয়া সম্ভব বলে ধরে নেয়া হইসে , কিন্তু এখন পর্যন্ত এরকম কিছু সত্যি সত্যি তৈরি করা যায় নাই >_<

হাইড্রেটেড যৌগ যেটা বললাম সেটা আসলে পানি অণুর ডাইপোলের প্রভাবে Ar, Kr , Xe অণু নিজেই কিছুটা পোলারিত হয়ে আবেশ প্রক্রিয়ায় যৌগ তৈরি করে।

আরেকটা টাইপ আছে , অধিশোষণ যৌগ। টাংস্টেন কিংবা মার্কারি , এইসব ধাতুর পৃষ্ঠে অধিশোষণের ফলে পাওয়া যায় WHe2 বা HgHe2 যৌগ গুলাকে।

তবে সত্যি সত্যি রাসায়নিক যৌগও কিন্তু আসলে আছে , হিলিয়াম আর নিয়ন বাদে বাকিদের। ভাল কথা , হিলিয়াম আর নিয়ন বাদে বাকিদের সত্যিকার রাসায়নিক যৌগ গঠনের নেপথ্যে এদের অণুর আকার তুলনামূলক বড় হওয়াটাকে কোন ভাবে দায়ী করা যায় কি ?

ভেবে দেখ তো , বইয়ের পর্যায় সারণী অংশে অন্য যত মৌল আছে তাদের রাসায়নিক ধর্ম ব্যাখ্যা করার সময় অণুর আকার ছোট-বড় হওয়াকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে না ? সেভাবে তুলনামূলক বড় আকারের নিষ্ক্রিয় গ্যাস – আর্গন , ক্রিপ্টন , জেনন এর জন্যও এইরকম একটা ধারণা দাড় করানো কি সম্ভব ?

5361 Total Views 6 Views Today
The following two tabs change content below.
Profile photo of Arifuzzaman Faisal
মোঃ আরিফুজ্জামান ফয়সাল, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর তড়িৎ কৌশল বিভাগে অধ্যয়ন রত। পাশাপাশি ইচ্ছে কোড (www.icchecode.com) এর প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব রত।

যোগাযোগ করুন

আমরা এই মূহূর্তে অনলাইনে না থাকায় সরাসরি কথা বলতে পারছি না। আপনি আমাদের একটা মেইল করে রাখতে পারেনা, যত তারাতারি সম্ভব আমরা আপনার মেইলের উত্তর করার চেষ্টা করবো।

Sending

© ২০১১-২০২০ ইচ্ছে কোড প্রোগ্রামিং স্কুল বাংলা ভাষায় প্রোগ্রামিং শিক্ষা

Log in with your credentials

Forgot your details?